আহমেদ বকুল: সিলেট শহরের টিলাগড় এলাকায় সুন্দর -মনোরম ও সুবিশাল পরিসরে ১৯৬৪ সালে সিলেট সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠা লাভ করে। সূচনালগ্নে ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত চালু হলেও পরবর্তীতে ১৯৮৮ সাল হতে বিএ, বিএসস,বি কম কোর্স চালু হয়।
সিলেট সরকারি কলেজের ৫০ বছর বয়স হলেও এর ভেতর কোন উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। অবহেলা অযত্নে কলেজের বিভিন্ন স্থাপনা মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছিল।
২০১৬ সালে এই কলেজের পদার্থ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাসিমা হক খান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণের পর তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এর সাথে সাক্ষাৎ করে কলেজের বিভিন্ন দুর্দশার কথা তুলে ধরেন।

তারই প্রেক্ষিতে ২০১৬ সালের আগস্ট মাসে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ প্রথমবারের মতো সিলেট সরকারি কলেজে আসেন । নিজ চোখে কলেজের করুণ অবস্থা প্রত্যক্ষ করে কলেজের উন্নয়নকল্পে প্রায় চার কোটি টাকা বরাদ্দ করেন। উল্লেখ্য,বর্তমানে কলেজটিতে পাঁচটি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু আছে । ভবিষ্যতে আরও চারটি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালুর বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ।
২০১৮ ইংরেজি সালে নাসিমা হক খান আবারো কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করার পর দ্রুত গতিতে উন্নয়ন সহায়তা বরাদ্দ থেকে কলেজের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড শুরু করেন।
প্রথমেই কলেজের পুড়ে যাওয়া ছাত্রাবাসের সংস্কার সাধন করেন। পরিত্যক্ত ছাত্রী নিবাস আবারো উন্নয়নের ছোঁয়ায় সচল হয়ে উঠছে। কলেজের একাডেমিক ভবনের সংস্কার কাজ, রংয়ের কাজ ইত্যাদি চলছে পুরোদমে।
ইতিমধ্যে অধ্যক্ষ নাসিমা হকের বিশেষ তৎপরতায় কলেজের তহবিল থেকে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত 'শহীদ মিনার' একাত্তরের শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠা করেছেন 'স্মৃতিসৌধ' ।
কলেজের বাগানে ফোয়ারা নির্মাণ করে কলেজের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছেন! এছাড়া কলেজ রোভার স্কাউট বিএনসিসি সপ্তাহে দুইদিন কলেজ ক্যাম্পাস পরিষ্কার পরিচ্ছন২০২০ সালে বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে কলেজে 'বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল' স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
এ সকল কাজে অধ্যক্ষ নাসিমা হক খান কে সহায়তা করে যাচ্ছেন কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ফজলুর রহমান মামুন ও অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।
অর্ধশত বছরের ঐতিহ্যবাহী সিলেট সরকারি কলেজ শ্রীহীন হয়ে পড়েছিল। কলেজের বিভিন্ন স্থাপনা -কলেজ ক্যাম্পাস ইত্যাদি নানা ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব লাভের পর থেকে নাসিমা হক সিলেট সরকারি কলেজটিকে একটি ভালো অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিনিয়ত কর্মপরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।
অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় বিগত ৫০ বছর সরকারের পালা বদল ঘটেছে কিন্তু উন্নয়ন বঞ্চনার শিকার হয়ে প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী কলেজটি একেবারে করুন অবস্থায় পতিত হলেও এ ব্যাপারে কেউ কোন উদ্যোগ গ্রহণ করেননি।
একজন সুদক্ষ- কর্মট ও সৃজনশীল মানুষ নাসিমা হক খান ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব লাভ করার পর থেকে কলেজটি উন্নয়নের অভিষ্ঠ লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গনের প্রতি আন্তরিকতা ও দরদ থাকলে একজন অধ্যক্ষ একটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে গর্বিত করে তুলতে পারেন। প্রাণ সঞ্চার করতে পারেন প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকটি অলিন্দে!
অধ্যক্ষ নাসিমা হক তারই জীবন্ত উদাহরণ।
উন্নয়ন বঞ্চনার শিকার সিলেট সরকারি কলেজটি অধ্যক্ষ নাসিমা হক খানের তৎপরতায় উন্নয়নের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবে এটুকু তার কর্মই প্রমাণ করছে।
সিলেট সরকারি কলেজের উন্নয়ন অব্যাহত রাখার জন্য অধ্যক্ষ নাসিমা হক -পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড.এম এ মোমেন ও পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।