
ডেস্ক রিপোর্ট: সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সাহিত্যপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ (কেমুসাস)-এর উদ্যোগে ১২ দিনব্যাপি একাদশ কেমুসাস বইমেলা আগামীকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হচ্ছে । বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের বীর শহিদদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নিবেদিত এ বইমেলা সফলের লক্ষ্যে রোববার বিকেল ৫টায় সিলেটের লেখক ও সংস্কৃতি কর্মীরা নগরীর দরগাগেইটস্থ কেমুসাস প্রাঙ্গণ থেকে একটি প্রচার র্যালি বের করেন। কেমুসাসের সহ-সভাপতি ও বইমেলা উপকমিটির আহবায়ক আ ন ম শফিকুল হকের সভাতিত্বে ও বইমেলা উপকমিটির সদস্যসচিব সৈয়দ মবনুর সঞ্চালনায় র্যালি-পূর্ব আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন কেমুসাসের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী। বইমেলা উপকমিটির আহবায়ক আ ন ম শফিকুল হকের উদ্বোধনীর মধ্যদিয়ে শুরু হয়ে র্যালিটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার কেমুসাস প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কেমুসাসের সহ-সভাপতি আজিজ আহমদ সেলিম ও সেলিম আউয়াল, বিশিস্ট কলামিস্ট আফতাব চৌধুরী, কেমুসাসের সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক আব্দুল মুকিত অপি, কার্যনির্বাহী সদস্য শফিকুর রহমান চৌধুরী, কার্যনির্বাহী সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ তাহের, কার্যনির্বাহী সদস্য জাহেদুর রহমান চৌধুরী, লেখক শামসীর হারুনুর রশীদ, লেখক চন্দ্রশেখর দেব, কবি মিনহাজ ফয়সল, চৌহাট্টা লিটলম্যাগ সম্পাদক নাওয়াজ মারজান, সংস্কৃতিকর্মী জুবায়ের আহমদ, প্রগতিশীল পাঠক সংঘ শৈলীর সভাপতি ফিদা হাসান, শৈলীর সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাফর ইকবাল, কবি আব্দুল কাদির জীবন, সংস্কৃতি কর্মী শোয়েব আহমদ চৌধুরী, মাজেদুল ইসলাম চৌধুরী, জামিল আহমদ, মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, খায়রুল ইসলাম, মাসুমবিল্লাহ, মোহাম্মদ রাসেল মিয়া, শামীম গাজী ও সাইফ উদ্দিন প্রমূখ।
র্যালি-পূর্ব আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে আ ন ম শফিকুল হক বলেন, সিলেটের কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ আমাদের ঐতিহ্যের অংশ এবং এই প্রতিষ্ঠান কর্তৃক এ অঞ্চলের ঐতিহ্যকে সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের মধ্যে মননশীল বই পাঠের অভ্যাসকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে পাঠাগার আন্দোলনের অংশ হিসাবে ১৯৩৬ খ্রিস্টাব্দে কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছিলো। ২০০০খ্রিস্টাব্দ থেকে এই সংসদ মানুষকে মননশীল বইয়ের আরও কাছাকাছি নিয়ে যেতে বইমেলা করে আসছে। এবারের মেলা হলো একাদশ বইমেলা। আমাদের প্রত্যাশা লেখক-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, প্রকাশক, পাঠক, শিক্ষক, ছাত্র সহ সর্বস্তরের সচেতন জনসাধারণ সর্বাত্মক সহযোগিতা করে একাদশ কেমুসাস বইমেলাকে সফল ও স্বার্থক করে তুলবেন। কেমুসামের সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদ রাজা চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে একাদশ কেমুসাস বইমেলাকে সিলেটবাসীর প্রাণের মেলা উল্লেখ করে বলেন, আমরা লেখক-সাহিত্যিক, সাংবাদিক, প্রকাশক সহ সবার কাছ থেকে সহযোগিতার প্রত্যাশা রাখি।
উল্লেখ্য, ২০ মার্চ মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় একাদশ কেমুসাস বইমেলার উদ্বোধন করবেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কেমুসাসের সভাপতি প্রফেসর মো. আব্দুল আজিজ। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বইমেলা চলবে। মেলা প্রাঙ্গণে প্রতিদিন থাকবে স্কুল-কলেজ, মাদরাসার শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, নতুন বইয়ের প্রকাশনা উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।