ডেস্ক রিপোর্ট ॥ পরিবেশ অধিদপ্তরের দায়ের করা মামলার প্রতিবাদে ডাকা আকস্মিক সড়ক অবরোধে চরম দুর্ভোগ-ভোগান্তিতে পড়েছেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার লোকজন। অবরোধের ফলে কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বন্ধ হয়ে পড়েছে পাথর পরিবহনও।
কোম্পানীগঞ্জের উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিরের ছেলে বহুল আলোচিত শামীম আহমদের অনুসারীরা অনির্দিষ্টকালের এ অবরোধের ডাক দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় উপজেলা আইন-শৃংখলা কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একজন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জানান, অযাচিত এ ধর্মঘটে কোম্পানীগঞ্জ থেকে ভোলাগঞ্জ এবং ধলাই ব্রীজের মুখ থেকে দয়ারবাজার পর্যন্ত এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে শ্রমজীবী লোকজন পড়েছেন চরম দুর্ভোগে। আকস্মিক এ ধর্মঘট সকলের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানান এ চেয়ারম্যান।
জানা গেছে, কোম্পানীগঞ্জের বিভিন্ন কোয়ারিতে পরিবেশ ধ্বংসের দায়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক পারভেজ আহম্মদ বাদী হয়ে ২২ জনের নামোল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরো ৭০-৮০ জনকে আসামি করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেছেন। (মামলা নম্বর ৭ /৭-১১-১৭, ধারা পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর ৪(২)(৩), ৬(খ) ও ১২ সহ পরিবেশ আইনের অনান্য ধারা।)
মামলায় আসামিরা হলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিরের ছেলে শামিম মিয়া ওরফে শামিম আহমদ ও বিলাল মিয়া ওরফে বিল্লাল আহমদ, পাড়–য়া মাঝ পাড়া গ্রামের রফিক উল্লার ছেলে গরিব উল্লাহ ও করিম উল্লাহ, ভোলাগঞ্জ গ্রামের সোনাফর আলীর ছেলে আতাউর রহমান, কলাবাড়ি গ্রামের মঙ্গাই মিয়ার ছেলে শাহবুদ্দিন, কালাইরাগের মদরিছ আলীর ছেলে আমির উদ্দিন, চিকাডহর গ্রামের মনফর আলীর ছেলে আঞ্জু ও আয়ুব আলি, পাড়–য়া গ্রামের জয়নাল আবেদিনের ছেলে ইলিয়াছ আলি রাসা, বিল্লাল মিয়ার ছেলে কেফায়েত উল্লাহ, কালিবাড়ি গ্রামের ইবরাহিম আলীর ছেলে মাহমুদ হোসেন মছন হাজি, শাহ আরেফির টিলার শুক্কর আলীর ছেলে বশর মিয়া ও কালা মিয়া, আব্দুর রশিদের ছেলে মানিক মিয়া, নারায়নপুর গ্রামের ইউনুছ আলীর ছেলে আব্দুল হান্নান, চিকাডহর গ্রামের আয়ুব আলীর ছেলে আলি নূর, পাড়–য়া গ্রামের তেরা মিয়া চৌধুরীর ছেলে মামুন চৌধুরী,ওয়াছিদ আলীর ছেলে নূরুল আমিন(বোম), ভোলাগঞ্জ গ্রামের ফরমান আলীর ছেলে কাওছার আহমদ, কালাইরাগ গ্রামের আব্দুন নুরের ছেলে লতিফ ও জমির আলীর ছেলে শায়েস্তা মিয়া।
এদিকে, মামলা দায়েরের খবর ছড়িয়ে পড়লে আসামিরা ও তাদের লোকজন বুধবার থেকে সিলেট-ভোলাগঞ্জ সড়ক রাস্তা অবরোধ করেন। তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য রাস্তা অবরোধ করার ঘোষণা দিয়েছেন। হঠাৎ করে বুধবার দুপুরে সড়ক অবরোধ করায় শত শত ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা আটকা পড়েছে। এ ব্যাপারে এলাকায় মাইকিংও করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার থেকে লাগাতার দুই দিনের অভিযান পরিচালনা করা হয় পুরো কোম্পানীগঞ্জে। উপজলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল লাইছ, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক পারভেজ আহম্মেদ ও হাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে অভিযান চলিয়ে ৩১টি বোমা মেশিন ধ্বংস করা হয়।