
এ কে এম কায়সারুল আলম সোহাগ : বর্তমানে ঢাকা শহরে অনলাইনে চলছে জমজমাট যৌনবাণিজ্য ।
পছন্দ, দরদাম ও টাকা পরিশোধও চলছে অনলাইনেই । উঠতি মডেল, কলেজ-বিশ্ববিদ্য
নগরীর অভিজাত এলাকা। ইগুলশান, বনানী, বারিধারা, উত্তরা, বনশ্রী ও অন্যান্য এলাকায় অন্তত দশটি স্পটে চলছে রমরমা দেহব্যবসা । এর বাইরে আবাসিক বাড়িতেও চলছে যৌনবাণিজ্য ।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অনেক স্পা সেন্টারে গড়ে উঠেছে মিনি পতিতালয় । সেখানে স্পা এর কথা বলা হলেও এর আড়ালে চলে দেহব্যবসা । নির্ধারিত স্পট ছাড়াও বাসা বাড়িতে যৌন কর্মীদের পৌঁছে দেয়ার কাজও করে স্পা সেন্টারগুলো ।
গুলশান বনানী কেন্দ্রিক অন্তত ১০টি চক্র রয়েছে, যারা অনলাইনে এ ধরনের প্রচারণা চালায় । গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে ফেসবুক পেজে অশ্লীল ছবিও ছাড়ছে তারা । আর এভাবেই অনলাইনে চালানো হচ্ছে জমজমাট যৌনবাণিজ্য ।
এ পেজগুলোতে মোবাইল নম্বর যুক্ত আছে । ফোন করলেই তারা ঘণ্টা চুক্তি অফার করে । স্পা সার্ভিসের পেজে বডি ম্যাসাজ ও শারীরিক মিলনের জন্য টাকার অঙ্কও তুলে ধরা হয়েছে । আর এসব পেজ মনিটরিং-এর জন্য সার্বক্ষণিক একজন রাখা হয়েছে ।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে এক রিল্যাক্স স্পা অ্যান্ড এসকর্ট এজেন্সির কর্মীর সঙ্গে কথা হয় । তিনি জানান, সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত তার কাজই হলো ফেসবুক পেজ অপারেট করা । শুধু তিনিই নন, তার মতো আরো ১৫ জন রয়েছে এ কাজে । তাদের কাজ-ফোন অথবা ফেসবুক পেজের গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা ।
সরেজমিনে গুলিস্তানে মাজারের পাশে সরু গলি দিয়ে এক মার্কেটের সিঁড়ি দিয়ে তৃতীয় তলায় উঠতেই চোখে পড়ে ওয়েস্টার্ন পোশাক পরা বিভিন্ন বয়সের নারীদের । এসব নারীদের কেউ কেউ ছেলেদের সঙ্গে মদ খাচ্ছেন। কেউ সিগারেটও টানছেন। এরই মধ্যে কোনো কোনো তরুণ-তরুণী বের হচ্ছেন, আবার প্রবেশ করছেন । সেখানে আসা কয়েকজন জানায়, তাদের কেউ অনলাইনের মাধ্যমে এসেছেন আবার কেউ এসেছেন পূর্ব পরিচিত হিসেবেও ।
একই ভাবে ব্যবসা চলছে গুলশান-২ এর ৫২ নম্বর সড়কের একটি বাড়িতেও । বাড়িটিতে লিফট আছে। ওই বাসার চারতলায় চলছে এ কর্মকান্ড । বাসাটি দেখে কারও মনেই হবে না সেখানে এ কাজ চলছে।
এসকর্ট এজেন্সির কর্মীরা জানান, চাকরিজীবী নারী ছাড়াও গৃহিণীদের ছবি রয়েছে এজেন্সির কাছে । অনেকের ছবি ওয়েব পেজে দেয়া হয় না। তাদের সরাসরি দেখানো হয়।