নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট মহানগরীর প্রধানতম সমস্যাগুলোর একটি জলাবদ্ধতা। কয়েক ঘন্টার টানা বৃষ্টিতেই জলে থৈ থৈ করে সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকা। যার সর্বশেষ নজির দেখা গেছে গত বুধবার ও গতকাল শনিবার। বর্ষার প্রারম্ভেই টানা বৃষ্টিতে ডুবে যায় সিলেট নগরী। চরম ভোগান্তি পোহাতে হয় নগরবাসীকে। এরকম পরিস্থিতিতে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে মাঠে নেমেছেন সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। বুলডোজার নিয়ে চালাচ্ছেন অভিযান। গুড়িয়ে দিচ্ছেন ছড়া-খালের উপর নির্মিত অবৈধ স্থাপনা।
গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত একটানা বৃষ্টিতে সিলেট নগরীর অন্তত এক ডজন স্থান কোথাও হাঁটুপানি, কোথাও কোমর সমান পানির নিচে তলিয়ে যায়। মানুষের বাসাবাড়িতে ঢুকে পড়ে পানি। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে ক্ষতিগ্রস্থ হয় মালামাল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বৃষ্টি মাথায় নিয়েই সেদিন সকাল থেকে কাজে নেমে পড়েন সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। হাঁটুজলের মধ্যে নগরীর জলাবদ্ধ এলাকাগুলো ঘুরে দেখেন তিনি। অনেক স্থানেই পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সিসিকের কর্মীদের নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবেই অপসারণ করেন আরিফ।
এরপর থেকে নগরীর বিভিন্ন ছড়া-খালের উপর অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা উচ্ছেদে বুলডোজার নিয়ে অভিযান চালাচ্ছেন মেয়র আরিফ। মূলত এসব ছড়া-খাল দখল হয়ে থাকায় পানিপ্রবাহে বিঘœ ঘটছে, সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। এজন্য ছড়া-খাল উদ্ধারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কাজ করছেন আরিফ।
গত বৃহস্পতিবার নগরীর পূর্ব জিন্দাবাজার, তাঁতীপাড়া ও হাওয়াপাড়া এলাকায় খালের উপর নির্মিত অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কাজ শুরু করেন মেয়র আরিফ। বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হয় বেশ কিছু অবৈধ স্থাপনা। ওই এলাকার পুরো খাল দখলমুক্ত ও পরিষ্কার করার কাজ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘খালের উপর অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করায় এটি ক্রমশ ছোট হয়ে ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে। এজন্য বৃষ্টি হলেই হাওয়াপাড়া, তাঁতীপাড়া ও পূর্ব জিন্দাবাজার এলাকায় পানি জমে যায়। খালটিকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে কাজ চলছে।’
এদিকে, গত শুক্রবার নগরীর শাহজালাল উপশহর ও তেরোরতন এলাকার হলদি ছড়ার উপর অবৈধভাবে নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ ও পরিষ্কার অভিযান চালান সিসিক মেয়র আরিফ। বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয় অবৈধ স্থাপনা। একইসাথে ছড়াটি পরিষ্কার করার কাজও শুরু হয়েছে।
গতকাল শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে নগরীর অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বৃষ্টির মধ্যেই মেয়র আরিফ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে মাঠে নামেন। নগরীর সুবিদবাজার, লন্ডনীরোড, গুয়াবাড়ি, সুবহানিঘাট, যতরপুর, মিরাবাজার, পাঠানটুলা প্রভৃতি এলাকায় তাৎক্ষণিকভাবে ড্রেন ও নালা পরিষ্কারের কাজ করতে নির্দেশ দেন তিনি।
সিসিক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘কিবরিয়া হত্যা মামলায় আমি কারান্তরীণ হওয়ার আগে নগরীর জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানে চেষ্টা করেছিলাম। তার উপকারও পেয়েছিলেন নগরবাসী। কিন্তু আমি কারান্তরীণ হওয়ার পর সবকিছু পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়। বর্তমানে নগরবাসীকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্ত রাখতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। যারা ছড়া-খাল দখল করে রেখেছেন, তাদের স্বউদ্যোগে দখল ছাড়তে বলা হয়েছে। না ছাড়লে সিটি করপোরেশন অভিযান চালিয়ে অবৈধ স্থাপনা গুড়িয়ে দেবে।’